সারাদেশ

জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৮:৩১, ১০ মার্চ ২০২৬
photo

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা করছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তেলের ঘাটতি মেটাতেই ওয়াশিংটন এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিঘ্নিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প খুঁজছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনার মধ্যে রাশিয়ার ওপর থেকে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অথবা ভারতের মতো নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশগুলো মার্কিন আইনি জটিলতা ছাড়াই রুশ তেল আমদানি করতে পারবে।

 

সাংবাদিকদের দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “তেলের উচ্চমূল্য কমাতে আমরা সাময়িকভাবে কিছু দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং শান্তি ফিরে এলে হয়তো ভবিষ্যতে আর এসব কঠোর বিধিনিষেধের প্রয়োজন পড়বে না।” এছাড়া প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌবাহিনী ও মিত্রদের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

 

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশটি ইউরোপীয় গ্রাহকদের সঙ্গে পুনরায় ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী। তবে সে ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ক্রেমলিন।

 

গত শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং শনিবার রাশিয়ার বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভও দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ইস্যুতে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিকে অত্যন্ত 'তাৎপর্যপূর্ণ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি মীমাংসার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য অনুকূল।

 

ইতিমধ্যেই গত সপ্তাহে ভারতকে সমুদ্রপথে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির সাময়িক অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার আয় বন্ধ করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করলেও, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

জ্বালানি বাজারের এই সংকট নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী কয়েক দিনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।