সারাদেশ

মার্কিন বাহিনীকে চরম শিক্ষা দিতে মুখিয়ে আছে ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:১৫, ০৬ মার্চ ২০২৬
photo

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে তেহরান বিন্দুমাত্র শঙ্কিত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন স্থলবাহিনীকে মোকাবিলা করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তেহরান এখন তাদের জন্যই অপেক্ষা করছে।

 

শুক্রবার (৬ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরান যেকোনো ধরনের স্থল আক্রমণ প্রতিহত করার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা ইরানের নেই। গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে সময়ও ইরান নিজে থেকে কোনো সন্ধি বা যুদ্ধবিরতির কথা বলেনি। বরং হামলাকারী ইসরায়েলই প্রথম যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছিল।

 

সম্প্রতি জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় ইরান যুদ্ধের পূর্বাভাস পেয়েছিল উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তারা পিছু হটবেন না। উল্লেখ্য, গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা ব্যর্থ হয়।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

 

আজ শুক্রবার পর্যন্ত ইরানে এই যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। গত ছয় দিনের অব্যাহত হামলায় দেশটিতে ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

 

এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অনড় রয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থলযুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন বাহিনীকে চরম শিক্ষা দেওয়া হবে। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।