সারাদেশ

জ্বালানির মজুত শেষ হলে কী করবে বাংলাদেশ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:৩০, ০৫ মার্চ ২০২৬
photo

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য লোডশেডিং এড়ানোই এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় এবং সরবরাহ রুট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।


দেশের পরিবহন খাতে বহুল ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রোল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আনতে হয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইনের মতে, আমদানিকৃত এই জ্বালানির বড় অংশ আসে স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই রুটটি বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।


তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। আদর্শগতভাবে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুত কমপক্ষে ৯০ দিনের থাকা উচিত ছিল। এছাড়া ব্যয়বহুল হলেও এলএনজি (LNG) স্টোরেজের মাধ্যমে অন্তত ১৫ দিনের ব্যাকআপ রাখা জরুরি ছিল, যা বর্তমানে নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হলে দেশের সার্বিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


জ্বালানি মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পরিচালক (অপারেশন) এ কে এম আজাদূর রহমান। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বর্তমান সরবরাহকারীদের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হবে এবং সমান্তরালভাবে বিকল্প উৎসের খোঁজ করা হবে।


একই সুরে কথা বলেছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি তাদের নজরে আছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সরবরাহকারী দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট এড়াতে বিকল্প বাজার খোঁজার পরিকল্পনা করছেন।


ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। ২ মার্চ, ২০২৬ তারিখের চিত্র অনুযায়ী, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি স্টেশনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বাংলাদেশেও যদি এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে দেশের অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।