সারাদেশ

কে এই মোজতবা খামেনি, যার কণ্ঠস্বর শোনেননি অনেক ইরানি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:২৩, ০৫ মার্চ ২০২৬
photo

দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসন ক্ষমতায় থাকা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের রাজনৈতিক আকাশে এখন বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন তার উত্তরসূরি? চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের চরম উত্তেজনার মাঝে পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও সরকার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশ্লেষকদের নজর এখন ৫৬ বছর বয়সী এই রহস্যময় ব্যক্তিত্বের ওপর।


গত শনিবার তেহরানে খামেনির বাসভবনে চালানো এক ভয়াবহ হামলায় মোজতবার মা, স্ত্রী ও এক বোন প্রাণ হারান। কাকতালীয়ভাবে সেই সময় উপস্থিত না থাকায় মোজতবা বেঁচে যান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পর্দার আড়ালে থেকে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) ওপর তার গভীর প্রভাব তাকে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকলেও অনেক ইরানি নাগরিক আজও তার কণ্ঠস্বর শোনেননি, কারণ তিনি জনসমক্ষে ভাষণ বা বক্তৃতা দেওয়া এড়িয়ে চলেন।


১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছিল ইরান। এখন বাবার স্থলাভিষিক্ত যদি ছেলেই হন, তবে তা এক নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্টসহ সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন বিক্ষোভ দমনে আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ ব্যবহার করে কঠোর ভূমিকা রেখেছিলেন মোজতবা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত দুই মাসের বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যেখানে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।


মোজতবা খামেনি কেবল একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে আইআরজিসি-র ‘হাবিব ব্যাটালিয়ন’-এ সরাসরি লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ পদে থাকা অনেক কর্মকর্তাই তার যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ছদ্মনামে বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেউলিয়া হওয়া ‘ব্যাংক আয়ান্দেহ’-এর লেনদেনের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে।


ইরানের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে ‘আয়াতুল্লাহ’ পদমর্যাদা প্রয়োজন, যেখানে মোজতবা বর্তমানে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ বা মধ্যম সারির আলেম। তবে ১৯৮৯ সালে আলি খামেনির সময় যেভাবে আইন সংশোধন করা হয়েছিল, মোজতবার ক্ষেত্রেও সেই একই পথ অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল (আলি রেজা আরাফি, হোসেন মহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান) দেশ পরিচালনা করছে। ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নতুন নেতার নাম ঘোষণা করার কথা থাকলেও, তাদের কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বোমা হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।