সারাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নয়, ভবিষ্যতে সংশোধনের সুযোগ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক; সম্পর্ক জোরদার ও নতুন বিনিয়োগ খাতে গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৫:৩২, ০৪ মার্চ ২০২৬
photo

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, “কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে বাণিজ্যচুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

বুধবার সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার নিয়মিত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পৃথক আলোচনা হয়নি চুক্তি নিয়ে

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত এ রাষ্ট্রীয় চুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। “এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই,” বলেন তিনি।

চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চুক্তিটিকে এখনই পুরোপুরি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর বিভিন্ন ধারা কাজে লাগানো যাবে।

ট্যারিফ রায় ও ভিসা বন্ড প্রসঙ্গ

মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি এখনো বিকাশমান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয় উল্লেখ থাকলেও, বৈঠকে সামরিক বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি। “সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়,” বলেন মন্ত্রী।

ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি দেখবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন।

বিনিয়োগ বাড়াতে নন-ট্যারিফ বাধা দূরের আহ্বান

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।