সারাদেশ

বন্ধ শিল্পকারখানা চালুতে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস নতুন গভর্নরের

নীতিগত সহায়তা, অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সমন্বয় জোরদারের ঘোষণা; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুদের হার পর্যালোচনায় গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৪:৫১, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক–এর নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে দায়িত্ব গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

 

বৈঠকে গভর্নর বলেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী ধারায় ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দেবে। চলমান সংস্কার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের নতুন গভর্নরের বক্তব্য তুলে ধরেন।

 

দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন গভর্নর। সেখানে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়ায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী অবস্থান নেবেন। তবে তথ্যপ্রবাহ সচল রাখতে মুখপাত্রের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে।

 

অন্তর্বর্তী সরকার ও আগের গভর্নরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে নতুন গভর্নর বলেন, এখন সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা হবে। গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সুবিধা ও ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদন সম্প্রসারণ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান গভর্নর। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে—এমন উচ্চ সুদের হার পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি নিয়মভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করার কথা বলেন গভর্নর। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

 

এ ছাড়া অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব। সবশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নবনিযুক্ত গভর্নর।