নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ টানাপোড়েন ও পাল্টাপাল্টি স্থগিতাদেশের পর অবশেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ভিসা পরিষেবা। বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দৃশ্যমান হলো। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন শুক্রবার সকাল থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পরিষেবা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতের পক্ষ থেকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম চালু করার আশ্বাস দেওয়া হয়। সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাসও নিশ্চিত করেছেন যে, ভিসা প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে বাংলাদেশও কনস্যুলার সেবা বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিবৃতিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং পরবর্তীতে টেলিফোনে আলাপকালে নতুন সরকারকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পূর্বনির্ধারিত 'এআই ইমপ্যাক্ট সামিট' থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদি সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও এই প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ভিসা কার্যক্রম সচল হওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিসা জটিলতা নিরসনের এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।