সারাদেশ

কাতার-বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৩:২৭, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার ও বাহরাইন থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পেন্টাগন। সম্প্রতি জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানির পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার সতর্কবার্তার পরই এই পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাকি ছয়টি দেশে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে দেওয়া এক চিঠিতে ইরানি প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই চিঠির পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে সংঘাত চলাকালে কাতারের বৃহত্তম আল উবেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান।


পেন্টাগনের তথ্যমতে, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই আটটি দেশে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এর মধ্যে বাহরাইনের ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা অপসারণ শুরু হলেও কুয়েত বা সৌদি আরবের মতো বাকি ৬টি দেশের ঘাঁটিগুলো থেকে এখনো কোনো সেনা সরানো হয়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় কমান্ড 'সেন্টকোম' (CENTCOM) কেন শুধু দুটি দেশ থেকে সেনা সরাচ্ছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। নিউ ইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে যোগাযোগ করলেও কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ইরানের কঠোর অবস্থানের মুখে কাতার ও বাহরাইন থেকে এই সেনা সরানোর প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।