সারাদেশ

রমজানের শুরুতেই অস্থির মাছ-মাংসের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৩:৩১, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

সংযমের মাস রমজানের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে দেখা দিয়েছে তীব্র ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা বাড়তি দরে পণ্য বিক্রি করছেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে।

 

রাজধানীর রামপুরা, মধুবাগ ও কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে ৩৫০ টাকার নিচে কোনো মাছ মেলা ভার। এমনকি সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াও এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

মাছ ও মাংসের বর্তমান বাজারদর একনজরে:

পণ্যের নাম

বর্তমান বাজারমূল্য (কেজিপ্রতি)

রুই, কাতলা, মৃগেল (চাষের)

৩৫০ — ৪০০ টাকা

ইলিশ (আকারভেদে)

১,২০০ — ১,৮০০ টাকা

দেশি মাছ (পাবদা, টেংরা, বোয়াল)

১,২০০ — ১,৫০০ টাকা

গরুর মাংস

৭৫০ — ৮৫০ টাকা

খাসির মাংস

১,১০০ — ১,২০০ টাকা

 

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরুপায়। রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী সবুর মিয়া জানান, কারওয়ান বাজার থেকে বেশি দামে মাছ সংগ্রহ করতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। মধুবাগ বাজারের ব্যবসায়ী করিম উদ্দিনের মতে, পাইকারি মূল্যের পাশাপাশি পরিবহন ও বরফসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই বাগ্‌বিতণ্ডা তৈরি হচ্ছে। পাইকারি বাজারের ওপর খুচরা বিক্রেতাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও তারা দাবি করেন।

 

ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজানকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। আজগর মিয়া নামের এক ক্রেতা জানান, রোজার ঠিক আগেই যে মাছ ২৮০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে মিলছে না। আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, বাজার করতে এলে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি। নিয়মিত বাজার তদারকি ও সরকারি নজরদারি না থাকাকেই এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে রমজান জুড়ে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে।