সারাদেশ

রমজানের শুরুতেই অস্থির খেজুরের বাজার: কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৫:৩৬, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারগুলোতে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মানভেদে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের একটি অংশ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের।

 

বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের কাছে জনপ্রিয় ‘জাহিদী’ ও ‘বস্তা’ খেজুরের ওপর।

 

জাহিদী খেজুর: গত বুধবার যে খেজুর ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে এই খেজুরের দাম ছিল ২৩০-২৫০ টাকা। উন্নত মানের জাহিদী এখন ৫০০ টাকায় ঠেকছে, যা গত বছর ছিল ৩৫০ টাকা।

 

বস্তা খেজুর: দুই দিন আগে ২২০-২৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এর দাম ছিল ১৮০-২২০ টাকা।

 

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, সব ধরনের খেজুরের দামই ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে বিভিন্ন মানের খেজুরের দর নিম্নরূপ:

 

খেজুরের ধরন,বর্তমান মূল্য (প্রতি কেজি)

  • সুরমা,৩৬০ - ৪০০ টাকা
  • বরই,৪৮০ - ৬৫০ টাকা
  • দাবাস,৬০০ - ৬৫০ টাকা
  • সুদাই,৭৫০ - ৮০০ টাকা
  • কালমি মরিয়ম,৮৫০ - ৯০০ টাকা
  • মাবরুম মরিয়ম,৮৫০ - ৯৫০ টাকা
  • আজওয়া,৯৫০ - ১০০০ টাকা
  • ইরানি মরিয়ম,১২৫০ - ১৪০০ টাকা
  • মেডজুল (প্রিমিয়াম),১৬৫০ - ১৮০০ টাকা

কৃত্রিম সংকট ও ভোক্তাদের ক্ষোভ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, দেশে বার্ষিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি খেজুর মজুত রয়েছে। রমজানের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও থাইল্যান্ডের সাগরে খেজুরবাহী কনটেইনার ডুবির একটি গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে।

 

বাজারে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ বিল্লাল আক্ষেপ করে জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাহিদী খেজুরের দাম কেজিতে ৭০ টাকা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এই বাজার নিয়ন্ত্রণে তিনি সরকারের কঠোর তদারকি দাবি করেন।

 

উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। উল্টো সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃত্রিম সংকট রোধে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে রমজানের বাকি দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।