নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ এমনিতেই ক্রিকেটে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত লড়াইগুলোর একটি। অনেকের চোখে এটি ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার শীর্ষবিন্দু। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ম্যাচকে ঘিরে এবারের যে আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে স্পষ্ট—গোটা ক্রিকেটবিশ্বের নজর থাকবে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম-এ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবার ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়াকে অন্যায় মনে করে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর কূটনৈতিক তৎপরতায় শঙ্কা কেটে গেলেও এসব ঘটনা ম্যাচটিকে পরিণত করেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বার্তা সংস্থা এএফপি-কে সূত্র জানিয়েছে, ৩৫ হাজার আসনবিশিষ্ট প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের সব টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিক দামের চার গুণ পর্যন্ত।
ধারণা করা হচ্ছে, রোববার সন্ধ্যায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি টেলিভিশনে দর্শকের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ সাধারণত ১০০ কোটির বেশি মানুষ দেখে। তবে আইসিসি-র যাচাই করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখেছেন ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সেই ম্যাচে ‘ইউনিক’ দর্শকসংখ্যা ছিল ৫৫ কোটি ৮০ লাখ। একই আসরে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়ের ম্যাচটি এই তালিকায় দ্বিতীয়, যেখানে দর্শক ছিল ৪৯ কোটি ৫০ লাখ।
এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় ভিড় জমিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক দর্শক কলম্বোয় জড়ো হওয়ায় ফ্লাইট ভাড়া ও হোটেল বুকিংয়ের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। বিভিন্ন বুকিং সাইটে দেখা গেছে, যেখানে সাধারণত এক রাতের হোটেলভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম্যাচটি চূড়ান্ত হওয়ার পর শেষ মুহূর্তের বুকিংয়ের কারণে চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলো থেকে কলম্বোগামী ফ্লাইটে আসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বোর ফ্লাইট সময় মাত্র দেড় ঘণ্টা হলেও ভাড়া বেড়েছে তিন গুণের বেশি। দিল্লি থেকে ফ্লাইটের ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।
শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা বলেন, হোটেলগুলো সম্পূর্ণ বুকড। তাঁর ভাষায়, ‘বেশির ভাগ দর্শকই প্যাকেজে আসছেন, যার দাম টিকিট, হোটেল ও ফ্লাইটের ওপর নির্ভর করে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।’
প্রাচীন মন্দির, সমুদ্রসৈকত ও চা–বাগানের জন্য পরিচিত শ্রীলঙ্কায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহত্তম খাত পর্যটন। সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে দেশটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম রয়টার্সকে বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে শ্রীলঙ্কায় আসা পর্যটকদের প্রায় ২০ শতাংশই এসেছেন ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি দেখতে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার ওপর আস্থা বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা।’
লাহোরের ক্রিকেটপ্রেমী মিঁয়া সুলতান জানান, সামনের সারির আসনে ম্যাচটি দেখতে তিনি ৮০০ ডলার খরচ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটা হবে দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ। ‘এ’ গ্রুপে দুই দলই এখন পর্যন্ত দুটি করে ম্যাচ জিতেছে। এই ম্যাচের জয়ী দল জায়গা করে নেবে সুপার এইটে। বর্তমানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ শুধু বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়, তাও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল ১৮ বছরেরও বেশি সময় আগে। আর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে দুই দলের সর্বশেষ সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩ বছর আগে।