নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ব্রিটিশ রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট। স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার–এর বিরুদ্ধে নিজ দলেই বিদ্রোহ তীব্র হয়েছে। একের পর এক এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করছেন, ফলে তার নেতৃত্ব এখন গুরুতর সংকটে পড়েছে।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। দলটি বহু কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারায়, আর ডানপন্থী নাইজেল ফারাজ–এর রিফর্ম ইউকে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটায়। এতে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
দলীয় এমপিদের অভিযোগ, স্টারমার ভোটারদের আস্থা হারিয়েছেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। কিছু এমপি এমনও বলেছেন যে, ২০২৪ সালের বিশাল জয়ের পেছনে স্টারমারের জনপ্রিয়তার চেয়ে কনজারভেটিভদের প্রতি জনঅসন্তোষই বেশি কাজ করেছিল।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭৫ জনেরও বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী ও সরকারি সহকারীরাও বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ তুলতে প্রয়োজন ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন—যা প্রায় ৮১ জন এমপি। বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিদ্রোহ সেই সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
চাপ বাড়লেও স্টারমার এখনই সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেছেন, তার সরকার “দশ বছরের প্রকল্প” এবং তিনি “লড়াই চালিয়ে যাবেন”। সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি অর্থনীতি পুনর্গঠন, শিল্প পুনরুজ্জীবন ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার সাম্প্রতিক ভাষণ বিদ্রোহ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং দলীয় অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে—ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে দল এখনও ঐক্যবদ্ধ কোনো বিকল্প নেতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। যদি বিদ্রোহ আরও বিস্তৃত হয় বা মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পদত্যাগ শুরু হয়, তাহলে স্টারমারের জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে। আবার লেবার নেতৃত্ব হঠাৎ পরিবর্তন করলে দল আরও অস্থিতিশীলও হয়ে পড়তে পারে—যা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।