নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ঐতিহাসিক এক রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এবার রাজ্যের ক্ষমতায় এলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
শপথের পর মঞ্চে শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল— মোদির শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে শুভেচ্ছা জানানো, যা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পূর্ণ আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা, পরে বিজেপিতে যোগ— শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পথচলা বরাবরই নাটকীয় ছিল। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর তাঁকেই পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই ব্রিগেড এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি সমর্থকেরা কলকাতায় আসেন। গেরুয়া পতাকা, ঢাক-ঢোল আর “পরিবর্তনের বাংলা” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিরাপত্তায় ছিল কড়া নজরদারি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণের পর প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও বড় পরীক্ষা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জয় পূর্ব ভারতে বিজেপির প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।