নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) খনিজ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’ (OPEC) এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কাজ করা এই জোটের জন্য ইউএই-এর এই সিদ্ধান্ত একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে আমিরাতের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ কাজ করছে। দেশটির দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হলেও প্রতিবেশী আরব দেশগুলো তাদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করেনি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে, এই জোটে থেকে তাদের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হচ্ছে না।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও জ্বালানি ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এমনিতেই অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এই রুটটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন প্রতিকূল সময়ে আমিরাতের এই বিচ্ছেদ জোটের প্রধান নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালো।
ওপেক ও ওপেক প্লাসের বর্তমান চিত্র ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ায় এখন ওপেকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। আমিরাত ছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অ্যাঙ্গোলা এই জোট ত্যাগ করেছিল।
বর্তমানে ওপেকের বাকি সদস্য দেশগুলো হলো— সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, লিবিয়া, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং ইকুইটোরিয়াল গিনি।
ওপেক প্লাস ও রাশিয়ার ভূমিকা ওপেক প্লাস জোটে ওপেকের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান শক্তি হলো রাশিয়া। এছাড়া মেক্সিকো, ওমান, আজারবাইজান, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, ব্রুনাই, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও কাজাখস্তান এই জোটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে।