নিজস্ব প্রতিবেদক
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৈঠকে পুতিন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠবে এবং সেখানে দ্রুত শান্তি ফিরে আসবে। খবর: আলজাজিরা ও বিবিসি।
সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই বৈঠকে পুতিন জোর দিয়ে বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। ইরানের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির জনগণ তাদের সক্ষমতা দিয়ে এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে পারবে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল ওয়াশিংটনের অনমনীয়তা। আরাগচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শর্ত ও দাবি চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই আলোচনা কোনো সফল পরিণতিতে পৌঁছাতে পারেনি।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরাগচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে তিনি ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ইরান ও ওমানের মধ্যে এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক এমা শর্টিস আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক এক চরম অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করার পর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
তবে শর্টিস এটাও মনে করেন যে, সম্ভাবনার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি নতুন ও উন্নত পরিকল্পনার প্রস্তাবের কথা শোনা যাচ্ছে। এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে ইরানের নমনীয় হওয়ার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।