সারাদেশ

হাঙ্গেরি সফরে গেলে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত: নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা

হবু প্রধানমন্ত্রী মাজিয়ারের কড়া অবস্থান—আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৫:১৩, ২১ এপ্রিল ২০২৬
photo

কামাল পাশা  

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক  
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে ইউরোপের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাঙ্গেরি এর সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, নেতানিয়াহু যদি হাঙ্গেরিতে সফরে আসেন, তাহলে তাকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

মাজিয়ার এক বক্তব্যে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করব না। যদি কোনো নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই বিষয়ে আমাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করা হবে।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার আদালত এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার আদালত ইতোমধ্যে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি, তবুও এই ধরনের ইঙ্গিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

বর্তমান হাঙ্গেরি সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন ভিক্টর অরবিন, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। অরবানের প্রশাসন ইউরোপীয় জোটের ভেতরে ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। ফলে মাজিয়ারের এই অবস্থান দেশটির প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাজিয়ারের এই মন্তব্য একদিকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি তার অবস্থান স্পষ্ট করছে, অন্যদিকে ইউরোপের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টাও প্রকাশ করছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে বেনজামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এসব উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে নেতানিয়াহু হাঙ্গেরি সফরে গেলে সেটি শুধু কূটনৈতিক সফরই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।