নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মেরুদণ্ড কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের কৃষক যদি সচ্ছল ও ভালো থাকে, তবেই সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে।”
কৃষক কার্ডের উদ্বোধন ও সুবিধা দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতীকী হিসেবে তিনি টাঙ্গাইলের ১৫ জন কিষান-কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি ১০টি বিশেষ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কৃষক কার্ড তারই অংশ। এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার যে কথা আমরা দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমরা তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। এর ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।”
পর্যায়ক্রমিক লক্ষ্যমাত্রা প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে প্রাথমিকভাবে ২২ হাজার কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা হলেও সরকারের পরিকল্পনা অনেক বড়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের মোট ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে ইনশা আল্লাহ।
পহেলা বৈশাখ ও কৃষি ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উৎসবের মূল শেকড় মিশে আছে কৃষকদের হালখাতার ঐতিহ্যের সাথে। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য এই সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার খাল খনন কর্মসূচির স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতিবর্গ কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এফএও-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জিয়াউকুন সি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ। কৃষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আবুল হোসেন ও জুলেখা আক্তার।
আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একটি কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।