নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বাংলা নববর্ষকে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির ধারক-বাহক এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের এক সর্বজনীন উৎসব। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে পহেলা বৈশাখ সবার জন্য আনন্দ ও মিলনের দিনে পরিণত হয়। এটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
অতীতের গ্লানি, দুঃখ ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নব উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে নতুন প্রত্যাশা ও অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। তিনি প্রত্যাশা করেন, নতুন বছর জাতীয় জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
মুঘল আমলে প্রবর্তিত ফসলি সনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারের নেওয়া 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির সূচনা দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
বাণীর শেষ অংশে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছরে সমাজ থেকে সব অশুভ ও অসুন্দর দূর হবে এবং সর্বত্র সত্য ও সুন্দরের জয়গান প্রতিধ্বনিত হবে। একটি ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই হোক এই নববর্ষের মূল অঙ্গীকার।