সারাদেশ

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১১:৩৮, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
photo

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে পৃথক দুটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে আজ রোববার সংসদ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজকের অধিবেশনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ এবং স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিল দুটি উত্থাপন করেন। বিল দুটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই কণ্ঠভোটে দ্রুততার সাথে এগুলো পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে মাত্র আট মিনিট।

 

নতুন এই আইন অনুযায়ী, বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ সকল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা এখন থেকে ৩২ বছর হবে। এ ছাড়া সকল স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনের ক্ষেত্রেও একই বয়সসীমা কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের বয়স ৩৩ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত থাকায় যে জটিলতা ছিল, এই আইনের মাধ্যমে তার নিরসন করা হয়েছে।

 

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল’-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিধিমালায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী , উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা বা সরকারি নির্দেশ পালনে বাধা দেওয়া 'অসদাচরণ' হিসেবে গণ্য হবে। অন্য কোনো কর্মচারীকে কাজে বাধা দিলে বা প্ররোচিত করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকা বা দলবদ্ধভাবে কাজ থেকে বিরত থাকাকে কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ বলা হবে। এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। আজকের পাস হওয়া বিল দুটি সেই সুপারিশেরই অংশ।

 

অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান। এর জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আশ্বস্ত করেন যে, প্রতিটি অধ্যাদেশই পর্যায়ক্রমে সংসদে তোলা হবে এবং সেখানে সংসদ সদস্যদের মত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ থাকবে। আজ পাস হওয়া বিল দুটি বিশেষ কমিটির সর্বসম্মত সুপারিশের ভিত্তিতেই আনা হয়েছিল বলে তিনি জানান।