নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে ‘ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান’কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ রবিবার সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে স্মার্ট ক্রীড়াকার্ড তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বোতাম চেপে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে ভাতা প্রদান প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। এর সাথে সাথেই মনোনীত প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়। উদ্বোধনী পর্যায়ে ২০টি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের মোট ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এই সম্মাননা ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি ও ভলিবলসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়রা রয়েছেন। তবে বিসিবি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হননি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানে জানান, এই উদ্যোগের আওতায় এপ্রিল মাস থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়মিত বেতন কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়; প্রতি চার মাস অন্তর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। যারা নিজেদের খেলার মান বজায় রাখতে পারবেন, তারাই কেবল এই আর্থিক সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। পারফরম্যান্সে অবনতি ঘটলে তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিধান রাখা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ,ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী) ,আহমেদ আযম খান (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী) ,মিজানুর রহমান মিনু (ভূমিমন্ত্রী) ,শামা ওবায়েদ ইসলাম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) ,ইসমাইল জবিউল্লাহ (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) ,আবদুস সালাম (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক) এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে এই কর্মসূচি দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।