নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে সরকার একটি স্বাধীন ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’কাজ করছে।
শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে ব্রিটিশ আমলের সেকেলে পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী নতুন আইন প্রণয়নের কথা জানান। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই বাহিনীকে পুনর্গঠন করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া বর্তমান পোশাক নিয়ে জনমনে থাকা অসন্তোষ দূর করতে পূর্বের কোনো উপযুক্ত পোশাকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন ,"আপনারা হবেন পরিবর্তনের সৈনিক। অপরাধীর মনে ভীতি আর নিরপরাধীর মনে প্রশান্তি জাগানোই আপনাদের কাজ। আইনের চোখে রাজনৈতিক কর্মী এবং প্রান্তিক কৃষক—সবাই সমান।"
২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই বিশেষ ব্যাচে মোট ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ এএসপি আহমেদ সাদমান সাকিব।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আইজিপি মো: আলী হোসেন ফকির এবং সভাপতিত্ব করেন একাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যসহ সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাসিং আউট প্যারেড শেষে এই ৭২ জন নবীন কর্মকর্তা এখন থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়িত হবেন।