নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রে ফেরার পথ সুগম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার এক নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়ে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছিল। সেই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণকে সাথে নিয়ে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গেছে।
তিনি বিগত বছরগুলোর নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। তবে সব বাধা উপেক্ষা করেই মানুষ তাদের লড়াই অব্যাহত রেখেছে, যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই নতুন গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রশংসা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসিত থেকেও তিনি আমাদের সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর তিনি নতুন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। তার নেতৃত্বে মাত্র এক মাসেই দেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষকদের সুদ মওকুফের মতো জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও পাদ্রীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
বক্তব্যের শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বেগম জিয়া গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।
মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অচিরেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।