নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার দীর্ঘ চার বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাটের কাজ। ফলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরে ফেরা এবং ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পন্টুনের উঁচু সিঁড়ি, বিশ্রামাগারের অভাব এবং ঘাটে যানবাহনের অব্যবস্থাপনায় নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে চাঁদপুর লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে এক বিশৃঙ্খল চিত্র। আধুনিক ঘাট নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় বর্তমানে অস্থায়ী ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য কোনো স্থায়ী বিশ্রামাগার না থাকায় নারী ও শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া স্যানিটেশন বা পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
রোকসানা বেগম নামের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিশ্রামাগার না থাকায় শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। দূর থেকে আসা আমাদের মতো যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর।"
লঞ্চ থেকে নামার পরপরই যাত্রীরা এক নতুন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। কুলি এবং সিএনজি ও অটোবাইক চালকদের মালপত্র নিয়ে টানাটানি ও জোরাজুরিতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যাত্রী আব্দুর রউফ ও জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিরাপদ ভ্রমণের আশায় মানুষ লঞ্চ ব্যবহার করলেও ঘাটের অব্যবস্থাপনা ও চালকদের হয়রানির কারণে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় ঘাটের আধুনিকায়ন থমকে আছে। যদিও ঈদ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রকৌশল বিভাগ সামান্য কিছু মেরামত কাজ করেছে, তবে তা বিপুল সংখ্যক যাত্রীর তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
চাঁদপুর নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, "নৌ বন্দরের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় যাত্রীদের অস্থায়ী ঘাট ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীরা যেন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।"
যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল হোসেন জানান, ঈদ পরবর্তী সময়েও যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
অন্যদিকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার জানান, জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক ঘাট পর্যবেক্ষণ করছেন। কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার সব ধরনের চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।