সারাদেশ

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ৭ দিন , সচল থাকবে ডিজিটাল ব্যাংকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৮:৩৬, ১৭ মার্চ ২০২৬
photo

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতে দেশ, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক শাখা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে দীর্ঘ এই ছুটিতে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন ও নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে এটিএম বুথ, এমএফএস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মতো বিকল্প মাধ্যমগুলো সার্বক্ষণিক সচল থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সব ব্যাংককে তাদের এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে গ্রাহকরা শাখা ছাড়াও বিভিন্নভাবে লেনদেন করতে পারছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বর্তমানে ১২,৭১৩টি এটিএম বুথ এবং ৮,৪৮৩টি ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন (সিআরএম) রয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩টি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের মাধ্যমে কেনাকাটা ও বিল পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। ব্যাংকগুলো এ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি কার্ড ইস্যু করেছে, যা ছুটির সময়ে নগদ টাকার সংকট মেটাতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

 

টানা বন্ধের সময় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বলা হয়েছে, শুধু এটিএম নয়, বরং কিউআর কোড, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেন যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। বিশেষ করে সিআরএম মেশিনগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকরা টাকা তোলার পাশাপাশি জমা দেওয়ার সুবিধাও পাবেন।

 

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলো এই ছুটিতে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকবে। বর্তমানে ১ কোটি ২৫ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করছেন, যেখানে গত জানুয়ারিতেই এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের 'সেলফিন', ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের 'নেক্সাস পে' এবং ব্র্যাক ব্যাংকের 'আস্থা'র মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

 

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, শাখা বন্ধ থাকলেও প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে ঈদ উদযাপনে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না সাধারণ মানুষকে।