নিজস্ব প্রতিবেদক
ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত নানা কারণে বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। বিশেষ করে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়া এখন গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো তার সুশিক্ষিত সমাজ। কিন্তু তথ্য বলছে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত মাদক সেবনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা যেখানে জাতি গড়ার কারিগর হওয়ার কথা, সেখানে তারা মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিনথেটিক মাদকের প্রবেশ ঠেকানো। প্রচলিত মাদকের চেয়ে নতুন ধরনের মাদকে আসক্ত হচ্ছে শিক্ষিত ও প্রগতিশীল সমাজের একটি বড় অংশ। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। তবে অন্যান্য মাদক জব্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, আইস, এলএসডি, কুশ, কিটামিন এবং ডিওবি-র মতো উচ্চমূল্যের মাদক অবৈধ পথে দেশে ঢুকছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ইয়াবার সরবরাহ সবচেয়ে বেশি এবং এটি খুব সহজেই সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবহেলা, মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয়তা এবং পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে মাদকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
মাদক সেবনের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে মাদকসেবীদের মধ্যে অনিদ্রা, স্মৃতিভ্রম, পারিবারিক কলহ, স্ট্রোক এবং আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়াও তারা মনোযোগের ঘাটতিসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, শুধুমাত্র পুলিশ দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের ব্যর্থতার কারণে মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমান সরকার এটি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।