সারাদেশ

ফিতরা নির্ধারণ ২০২৬: জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৭:০৮, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ 'সাদাকাতুল ফিতর' বা ফিতরা। এবার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। গতকাল জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় দেশের বাজার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে এই হার চূড়ান্ত করা হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী ৫টি পণ্যের যেকোনো একটির বাজারমূল্য দিয়ে এই ফিতরা আদায় করা যাবে।

 

রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে দরিদ্র ও অসহায়দের হক হিসেবে আসে সাদাকাতুল ফিতর। বুধবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের এই হার নির্ধারণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক।

 

দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এবারের হারগুলো হলো—

 

  • আটা: ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা।
  • যব: ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা।
  • খেজুর: ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২,৪৭৫ টাকা।
  • কিশমিশ: ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২,৬৪০ টাকা।
  • পনির: ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২,৮০৫ টাকা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্যের কারণে ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা হতে পারে। তবে শরয়ি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্যবানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ৫টি পণ্যের যেকোনো একটির বাজার মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে পারবেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনসাফ হলো—যিনি যে মানের চালের ভাত খান বা যে মানের খেজুর দিয়ে ইফতার করেন, তিনি যেন সেই সমমানের ফিতরা প্রদান করেন। অর্থাৎ বিত্তবানদের জন্য সর্বোচ্চ মূল্যের পণ্য বা উত্তম খাদ্যের মূল্যে ফিতরা দেওয়াই শ্রেয়।

 

ফিতরা মূলত রমজানের রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করে এবং সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। শরয়ি বিধান মতে, ঈদের দিন সকালে যাঁর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের অর্থ থাকবে, তাঁর নিজের ও পরিবারের সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। এমনকি যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, সওয়াবের আশায় তারাও এটি আদায় করতে পারবেন।

 

ফিতরার অর্থ মূলত যাকাতের জন্য নির্ধারিত ৮টি খাতে ব্যয় করা যায়। যার মধ্যে রয়েছে—ফকির, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, মুসাফির ও পথশিশুরা। ঈদের নামাজের আগেই এই অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যেন অভাবীরাও ঈদের উৎসবে সমানভাবে অংশ নিতে পারে।