প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ১১:৪৮
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন, সরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, প্রতিবছর পর্যাপ্ত নিয়োগ এবং সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব)-এর নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়। ডি-ফ্যাব কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ডি-ফ্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডি-ফ্যাবের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু পদমর্যাদা, বেতন গ্রেড ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির ক্ষেত্রে তারা এখনও যথাযথ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীদের মতো ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদেরও ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন জরুরি।
তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যানও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সরকার তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে তিনি একমত। তাদের অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি দেশের ফার্মাসিস্টদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হবে।
তারা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ফার্মাসিস্ট পদ সৃজন, স্নাতক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সুস্পষ্ট গ্রেড ও পদোন্নতি কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৪ সালে উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০১১ সালে নার্সিং ডিপ্লোমাধারী এবং ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও ডিপ্লোমা ফিশারিজ পেশাজীবীদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। অথচ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা এখনও একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
ডি-ফ্যাবের নেতৃবৃন্দের দাবি, বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ফার্মাসিস্টের মধ্যে আনুমানিক ৮৫০ জন ১০ম গ্রেডের নিচের বেতনক্রমে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈষম্যের শিকার। তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে সভায় দাবি করা হয়।
ডি-ফ্যাবের চার দফা দাবি
১. ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন: অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীদের মতো ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের দ্রুত ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।
২. উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ: দেশে ও বিদেশে সরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা, ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
৩. প্রতিবছর নিয়োগ: যথাযথ নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর পর্যাপ্ত সংখ্যক ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।
৪. সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যান: ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জন্য বাস্তবসম্মত ক্যারিয়ার প্ল্যান এবং পদোন্নতির কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
ডি-ফ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
আলোচনা সভা শেষে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব)-এর ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটিতে মো. আসাদুল্লাহ মিয়া সভাপতি এবং মো. নাজমুল হুদা মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর (পাওয়েল), আতিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মীর আবদুর রাজ্জাক ও মো. শামসুর রহমান।
সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহ-সভাপতি হিসেবে মো. নুরুর রহমান ও মো. ফিরোজ হোসেন দায়িত্ব পেয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হয়েছেন মো. মরতুজ আলী।
এছাড়া বিভিন্ন পদে যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর, প্রচার, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক, সাহিত্য ও প্রকাশনা, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ, গণমাধ্যম ও মিডিয়া, আইন, ধর্ম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফার্মাসিস্টদের সমন্বয়ে গঠিত ১৫১ সদস্যের কমিটিতে আরও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ ও সাধারণ সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডি-ফ্যাবের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মো. নাজমুল হুদা।
ডি-ফ্যাবের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করবে। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি তাদের পেশাগত মর্যাদাও সুদৃঢ় হবে।