বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৫:৫৭

 বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশের সার্বভৌম স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে সরকার পথ চলছে বলে জানান তিনি।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’-এর বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন হলো দেশের হারিয়ে যাওয়া স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এখন সব কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও এই অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।”

 

দুই বছর আগের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে দেশের তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। বিদেশে অবস্থানকালেও দেশের শিশু-কিশোর হত্যা, দমন-পীড়ন ও দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের খবর আমাদের গভীর উদ্বিগ্ন করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম নৃশংস সময়।”

 

তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা কমাতে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

 

পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটানো।

 

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষকরাও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের জয়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনা এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বজুড়ে কর্মরত diplomats-দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই অসম্ভব মিশন জয় করা সম্ভব হয়েছে।”

 

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “তরুণরা এক ভয়াবহ দানবের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন মেধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে দেশকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”