জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৪২

আগামীকাল পাঁচই আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দেবেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মঙ্গলবারে সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।

 

দিবসটির সূচনায় দেশের সবকটি জেলায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। রাজধানী ঢাকায় পাঁচই আগস্ট সকাল ৯টায় বহুল প্রতীক্ষিত 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পর বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বিশেষ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। উক্ত অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের পরিবারবর্গ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানানো হবে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের ৬৪টি জেলাতেই একই ধরনের সংবর্ধনা ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার সূচি রাখা হয়েছে।

 

জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজনকে ঘিরে সারা দেশে নানা স্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে তথ্য ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনার আয়োজন করা হয়, যাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন। দিবসটির সার্বিক আবহ ফুটিয়ে তুলতে ঢাকার বাইরেও সিটি কর্পোরেশনগুলোর মিনিপোলগুলোতে আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলে দিনভর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও আলোচনা সম্প্রচার করা হবে।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতেও থাকছে নানা আয়োজন। দেশের সব স্কুল-কলেজে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার পাশাপাশি রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশের মাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে। একই সঙ্গে সারা দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজিয়ে তোলা হয়েছে দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো।  শহীদ স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। পাঁচই আগস্ট উপলক্ষে সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরসহ দেশের বিনোদনকেন্দ্রগুলো শিশুদের জন্য দিনভর বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।