প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৩:২৮
বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো ভাষা ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেভাবে ‘এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেব না’ বা ‘পাঁচ বছর সরকার চালাতে দেব না’ বলতেন, আজ বিরোধী দলের নেতারাও সেই একই ভাষায় কথা বলছেন।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।
‘রাজপথের সংঘাত নয়, সংলাপে আসুন’ ‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’—এই শব্দগত বিতর্কসহ যেকোনো ইস্যুতে বিরোধীদের রাজপথে সংঘাতের পথ পরিহার করার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বিরোধীদের সংসদে এসে গঠনমূলক আলোচনা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন: "গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিরোধী দলের সমালোচনা ও বিরোধিতা জরুরি, তবে তা সংসদীয় শিষ্টাচারের মধ্যে থাকা উচিত। রাজপথের প্রতিবাদ যেন কোনোভাবেই সংঘাতের রূপ না নেয়।"
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।
বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না বলে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাকে ‘সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও গুঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার ইতিমধ্যে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, আবাসন নিশ্চিত করাসহ আন্দোলনরত শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অজস্র রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেটিকেই রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু করা উচিত। আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংসদকে কার্যকর করা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উন্নত করাই হবে জুলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।
রাজনীতির চর্চাকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালীন চর্চা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। সুশাসন নিশ্চিতে তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন, নির্যাতন ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়েছে। এখন প্রধান লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া।
বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশবিরোধী সব চক্রান্ত নস্যাৎ করা এবং সংবাদমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।