প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, সময়ঃ ০৫:০৩
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির ইতিহাসে যা এ যাবৎকালের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১,৪৮৭ জন।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩,৩৬০ জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ইবোলা প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রোগ ছড়িয়ে পড়া রওয়ামপারা অঞ্চলের বাসিন্দা এবং চার সন্তানের জননী ডেবোরাহ এনজুভা নিজের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে বলেন, "সংঘাতের কারণে আমরা ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলাম। তার ওপর এখন ইবোলা এসে প্রতিনিয়ত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।"
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইতুরি প্রদেশের এই বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একসময় পুরো অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।
গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা ভাইরাসের 'বুন্ডিবুগিও' ধরণটির প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। ঘোষণার পর থেকে এটি দেশটিতে এর আগে ঘটে যাওয়া বিগত ১৬টি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের যেকোনোটির চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে।
চলতি প্রাদুর্ভাবের সংক্রমণের পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই দেশটির ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের সেই ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সে সময় ডিআর কঙ্গোতে মোট ৩,৪৭০ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনপিএইচআই) ইবোলা প্রতিরোধ কার্যক্রমের প্রধান অধ্যাপক পিয়েরে আকিলিমালি দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, সংক্রমণ এখনো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এই প্রাদুর্ভাব ঠিক কবে নাগাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে (পিক) পৌঁছাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।