প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, সময়ঃ ০৫:১৩
দেশে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বাড়ার পেছনে প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, অতীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানামুখী হস্তক্ষেপের কারণে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে মামলা করতে পারতেন না বা যেতেন না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন থানায় যাওয়া মাত্রই মামলা রেকর্ড করা হয়, এমনকি অনলাইনের মাধ্যমেও জিডি বা এফআইআর দায়েরের সুযোগ রয়েছে। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকায় এখন মামলার সংখ্যা কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
এর আগে, আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মার্চ ও এপ্রিল মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাজের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে পারলে এই ছাঁটাই প্রস্তাব আসত না।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সব ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। খুন, ডাকাতি কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের মাসভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে এই অগ্রগতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে কেবল ধর্ষণের মামলার সংখ্যার দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
মামলা বাড়ার কারণ স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক বাধা নেই। ভুক্তভোগীরা সহজেই থানায় কিংবা অনলাইনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন। ফলে মামলার সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বেশি মনে হচ্ছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ধর্ষণের ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার, চার্জশিট প্রদান এবং সাক্ষী হাজির করার ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পল্লবীর শিশু হত্যার বিচার মাত্র ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। এছাড়া ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তনু হত্যার আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরাধীদের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে, এখানে কোনো দলীয় পরিচয় দেখা হচ্ছে না। এমনকি বিরোধী দলের কোনো কর্মী অপরাধে জড়ালে সংশ্লিষ্ট দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় রাজনৈতিক পরিচয়কে কোনো প্রাধান্য দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলা ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সরকার ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক ও স্থায়ী উন্নয়নের জন্য কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।