নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হলো ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, সময়ঃ ০৭:২৫

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’। আজ সোমবার দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ-বানৌজা ঢাকার মাল্টিপারপাস হলে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।


সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। এ ছাড়া সেমিনারে সমুদ্রবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ, হাইড্রোগ্রাফি ও ওশানোগ্রাফি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং গবেষণা সংস্থার ব্যক্তিবর্গ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।


সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ (Transforming How Ocean Data is Shared) এ প্রতিপাদ্য বিষয়ে এ বছর ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ পালিত হচ্ছে।


প্রতিপাদ্য বিষয়টির মাধ্যমে সমুদ্র সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সমুদ্রে দেশি-বিদেশি জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


সেমিনারে বক্তারা সমুদ্র সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় উন্নয়ন, মেরিন ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণ, উপকূলীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রসমূহ সমুদ্র অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।


বাংলাদেশ ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (IHO) এর ৭০তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৮৩ সাল হতে দেশের সমুদ্র অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নটিক্যাল চার্ট প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কাগজে মুদ্রণের পাশাপাশি এসব চার্ট বর্তমানে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচলে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।


বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন (NIOHC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। গত মে ২০২৬ মাসে কমিশনটির ২৫তম সম্মেলন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য হতে অত্যাধুনিক সমুদ্র জরিপ ও গবেষণা জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, সমুদ্র গবেষণা ও সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।