ভারতের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘বিশ্ব মানচিত্র থেকে পাকিস্তান মুছে যেতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, সময়ঃ ০৫:৪০

কামাল পাশা  

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক  

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তান-এর মধ্যে উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের একাধিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত মহল থেকে পাকিস্তানকে ঘিরে কঠোর বক্তব্য সামনে এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় “বিশ্বের মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে ফেলার” মতো বিতর্কিত মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককেই আরও জটিল করে তোলে না, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে উত্তেজনা, কাশ্মীর ইস্যু এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ সামনে এলেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তাদের দাবি, সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য ইসলামাবাদকেই দায়ী করা উচিত। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বরাবরের মতোই বলছে, ভারত আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি কূটনৈতিক আলোচনার পথ সংকুচিত করার আশঙ্কাও তৈরি করছে। কারণ উভয় দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় যেকোনো সংঘাতের প্রভাব শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বরাবরের মতোই দুই দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। শান্তিপূর্ণ সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের উত্তাপ সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে দুই দেশকেই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।