আওয়ামী লীগ আমলের চুক্তি পর্যালোচনা করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৩০

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎখাতের বিশেষ বিধান আইনের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত এই নতুন কমিটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) ট্যারিফ কাঠামো, পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ), আর্থিক নথি এবং প্রকল্প ব্যয়ের হিসাব বিস্তারিতভাবে যাচাই করবে। কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অযৌক্তিকভাবে বেশি নির্ধারিত হলে তা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করবে কমিটি।

 

এছাড়াও, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে আইপিপি মালিকদের সঙ্গে পুনরায় নেগোসিয়েশন করে প্রয়োজনীয় চুক্তির শর্ত সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুপারিশ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। এই কমিটির যাবতীয় খরচ বহন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (উন্নয়ন-১) আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:

 

  • বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশিক্ষণ)
  • পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের একজন প্রতিনিধি
  • আইএমইডির একজন প্রতিনিধি
  • লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একজন প্রতিনিধি
  • বিদ্যুৎ বিভাগের একজন উপসচিব
  • অর্থ বিভাগের একজন প্রতিনিধি
  • সংশ্লিষ্ট আইপিপি সেলের একজন প্রতিনিধি
  • বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কোল পরিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী

 

পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টিই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল) নির্মিত হয়েছে এবং ৯১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিশেষ বিধান আইনের আওতায় তৈরি।

 

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ আইনের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিবিশেষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল।

 

আদানি চুক্তি ও ব্যয় বৃদ্ধি: পূর্ববর্তী কমিটির প্রতিবেদনে ভারতের আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিতে বড় অঙ্কের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, চুক্তির ২৫ বছরে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে।

 

আর্থিক লোকসান: তেল, গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ কেনায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে। ঘাটতি ঠেকাতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হতে পারে, যা দেশের শিল্প খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি রেজাউল হাসনাত ডেভিড বলেন, যে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রই একটি আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। জ্বালানি পরিবহন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোকেশনসহ নানা বাস্তবসম্মত হিসাব এর পেছনে রয়েছে। তাই সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা বা নেগোসিয়েশনের মাধ্যমেই গ্রহণ করবে বলে তারা আশা করেন।