প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৪:১৫
বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল, ২০২৬) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ও পঞ্চশীল নীতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকার যে শিক্ষা বৌদ্ধ ধর্মে রয়েছে, তা প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মের সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও নির্দেশনা মেনে চলেন, তবে খুব সহজেই একটি মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে।
তারেক রহমান বলেন, "আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও এমনটি করা হয়নি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারে, এটিই আমাদের বর্তমান সরকারের মূল নীতি।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দর্শনই দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
দেশের অমুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার এবং আমাদের সকলের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।"
সবশেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দিনটি আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।