প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ১০:০৮
দেশে বর্তমানে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে টিকার ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই আগে কোনো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা গ্রহণ করেনি।
বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
সংবাদ সম্মেলনে আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, আক্রান্তদের সিংহভাগ অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ শিশু কোনো টিকা পায়নি। এছাড়া মোট আক্রান্তের মধ্যে ১৪ শতাংশ শিশু টিকার মাত্র একটি ডোজ গ্রহণ করেছিল। মূলত এই বিশাল সংখ্যক শিশুর টিকাহীন থাকাই বর্তমান সংক্রমণের মূল কারণ।
হামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ইতিমধ্যে দেশের ৩০টি উপজেলাকে 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এর সুফলও আসতে শুরু করেছে; ওই এলাকাগুলোতে সংক্রমণ আগের তুলনায় কমতে শুরু করেছে। মহাপরিচালক স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কোনো শিশুকেই টিকার আওতার বাইরে রাখা হবে না।
শিশুরা হামে আক্রান্ত হলে তাদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর না করার পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক। তিনি জানান ,দেশের সব হাসপাতালেই হামের চিকিৎসার জন্য পৃথক ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অকারণে রোগী স্থানান্তর করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।
টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
হামের পাশাপাশি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।