বিশ্বের ৩৩তম পরমাণু শক্তির দেশ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৯:১৮

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে আজ এক স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ছয় দশকের স্বপ্ন পূরণ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ব্যবহার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল বাংলাদেশ।

 

এক সময়ের নিভৃত গ্রাম রূপপুর এখন দেশের সবচেয়ে বড় মেগাপ্রকল্পের প্রাণকেন্দ্র। ১৯৬১ সালে প্রথম এই প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে তা থমকে ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেন এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসে।

 

২০১০ সালে মস্কোতে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাঠামো চুক্তি সই হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘রোসাটম’ এই প্রকল্পের মূল বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে দুটি পৃথক ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে নকশা ও অর্থায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর ২০১৬ সালে শুরু হয় মূল নির্মাণকাজ।

 

২০১৭ এ প্রথম ইউনিটের মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। ২০২৩ সালে রাশিয়া থেকে আকাশপথে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) বাংলাদেশে আসে।

 

অক্টোবর ২০২৩ এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রতীকী জ্বালানি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ ‘নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ যুগে পা রাখে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হবে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি নাগাদ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই সরবরাহ ১,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

 

পুরোদমে চালু হলে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষের ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এই প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।