প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৩:২৩
পারমানবিকের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি সংযোজন শুরু হচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ক্ষণগণনা শুরু হলো। অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম থেকেই বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন সম্ভব।
যেখানে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ পেতে কয়েক টন কয়লার প্রয়োজন হয়, সেখানে কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট। আধুনিক নিউক্লিয়ার ফিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউক্লিয়ার ফুয়েলের শক্তি অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এ ক্ষুদ্র আকারের মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে তার জন্য কয়লা লাগবে ৪শ কেজি , গ্যাস লাগবে ৩৬০ ঘনমিটার।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির মূল উপাদান হলো ছোট আকারের ইউরেনিয়াম পেলেট। এ জ্বালানি তেল, গ্যাস বা কয়লার মতো প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ সমৃদ্ধ ধাতব পদার্থ থেকেই এ পেলেট তৈরি করা হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
এ রকম কয়েকশ পেলেট একটি নিশ্ছিদ্র ধাতব টিউবে ঢোকানো থাকে।
এ ধাতব টিউবই ফুয়েল রড হিসেবে পরিচিত। অনেকগুলো ফুয়েল রড একসঙ্গে যুক্ত করে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একটি ফুয়েল এসেম্বলি লম্বায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিটার পর্যন্ত হয়। আর এ রকম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি জ্বালানি হিসেবে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়। বাংলাদেশে ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি চুল্লিতে এমন ১৬৩টি ফুয়েল এসেম্বলি লোড করা হবে।
খনির আকরিক থেকে নানা প্রক্রিয়া করে তৈরি করা হয় ইউরেনিয়ামের এ জ্বালানি। তেল গ্যাস বা কয়লার মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের কোনো সুযোগ নেই। তাই এটিকে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ও নির্মল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি বলা হয়।
গ্যাস, কয়লা বা তেল যেভাবে পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় নিউক্লিয়ার ফুয়েল পোড়ানো হয় পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশান বিক্রিয়ার মাধ্যমে যেখানে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজন ঘটে। এর ফলে প্রচুর তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। এ তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে। পারমাণবিক চুল্লিতে এটি একধরনের নিয়ন্ত্রিত চেইন রিয়্যাকশন।
ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি থেকে আবার ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি পাওয়া যায় বিধায় অনেকে এ জ্বালানিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবেও অভিহিত করেন।