প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৩:১১
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছিল। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁসের যে বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু সেটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নয় বরং সুপরিকল্পিত একটি প্রতারণা।
চক্রটি প্রথমে টাকা নেয় এবং পরে নানা অজুহাত দিয়ে উধাও হয়ে যায়। এমনকি পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগের রাতে আপলোড করা হয়েছিল বলে দাবি করে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলে।
তিনি আরও জানান, সত্যিকারের প্রমাণ না থাকায় এবং প্রতিবেদনে ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলটি নিজ দায়িত্বেই প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিয়েছে।
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস ও মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে সচেষ্ট। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যেই বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার ‘আন্দোলনময় শিক্ষা’র যে সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, তা প্রতারণামূলক মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন।
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।
এইচএসসি পরীক্ষার সেশনজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যার সমাধানে শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দুই বছরের কোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে চাই, যেন কোনো ধরনের অপেক্ষার সময় না থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও যেন দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, সে বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
গুজব প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনায় সবার সহযোগিতা কামনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সচেতনতা ছাড়া এ ধরনের সমস্যা রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা চাই, আমাদের কারণে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হোক।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুর কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।