প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৫৫
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারেরও বেশি উঠেছে বলে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিভিন্ন বাজার সূত্র জানিয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ভোরে ব্যারেলপ্রতি ১০৬.৮০ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় পাঁচ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানও এই কৌশলগত জলপথে নিরাপত্তা ও কর্তৃত্ব বজায় রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের বাধা বা উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে অনেক জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিয়েছে, যা সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জাহাজ জব্দ বা আটকের ঘটনা ঘটে, যা সামুদ্রিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে দেশভিত্তিক দাবির ভিন্নতা রয়েছে এবং কিছু তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে শুধু তেলের দামই নয়, বিশ্বজুড়ে খাদ্য, পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং অনেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধান না এলে আগামী দিনে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।