প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৮:৫১
আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ওঠা বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২৭ দিনের মাথায় তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কাঠমাণ্ডু পোস্ট।
মূলত অর্থপাচারের তদন্তাধীন ব্যবসায়ী ডিপক ভাট্টার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠায় বিপাকে পড়েন সুদান গুরুং। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নৈতিকতার কারণ দেখিয়ে তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে সুদান গুরুং জানান, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন: “নৈতিকতা আমার কাছে পদমর্যাদার চেয়ে বড়। জনবিশ্বাসের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই। পদ ধরে রেখে আমি তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে চাই না।”
নেপালে চলমান ‘জেন-জি’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে দাবি তুলেছে, তা নেতৃত্বের জন্য একটি বড় বার্তা।
বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারে এটি দ্বিতীয় কোনো বড় পরিবর্তনের ঘটনা। এর আগে গত ৯ এপ্রিল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী দীপক কুমার শাহকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই মন্ত্রীর বিদায় সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
৩৬ বছর বয়সী সুদান গুরুং গত ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি গত সেপ্টেম্বরে নেপালের আলোচিত ‘জেন-জি’ আন্দোলনের একজন অন্যতম নেতা ছিলেন। যদিও সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন যে, অভিযোগ আর সত্য এক নয় এবং সব সিদ্ধান্ত আবেগের বদলে প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, তবুও শেষ পর্যন্ত নৈতিক চাপে তিনি পদত্যাগই বেছে নিলেন।