প্রতিবেদন প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৬:৪২
ইরানে সাম্প্রতিক হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতায় চরম সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশ ও সমুদ্রপথের যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার সমমূল্যের একটি উদীয়মান বাজার এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক। এর মধ্যে জোব্বা, শেরওয়ানি, পাগড়ি, আম্মামা ও সিরওয়ালের মতো ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি শার্ট, প্যান্ট ও ব্লেজারের ব্যাপক চাহিদা ছিল। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ভয়াবহতায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা তাদের সব ক্রয়াদেশ স্থগিত করে দিয়েছেন। সুইডিশ ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম-সহ বড় বড় ক্রেতারা ইতোমধ্যে পণ্য উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যে ৬৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে । এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি হয়েছে ২৮ কোটি ১১ লাখ ডলার। সৌদি আরবে রপ্তানি হয়েছে ২৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার। ইরানে যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮১ লাখ ডলার। কুয়েতসহ ১২টি দেশে বাংলাদেশের ১২টি ব্লকে বাণিজ্য চলছিল।
গত অর্থবছরে এই বাজারে মোট রপ্তানি ছিল ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি। বর্তমানে টুপি বা ছোট কিছু পণ্য নামমাত্র রপ্তানি হলেও বড় বড় চালানগুলো পুরোপুরি বন্ধ। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পর্যটন ও স্থানীয় চাহিদা কেন্দ্র করে বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় বাজার তৈরি হচ্ছিল। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ জানান, এই বাজারে রপ্তানির ৮৯ শতাংশই তৈরি পোশাক। সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর তেল-গ্যাস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং অর্থনৈতিক অভিঘাত আসায় এই বাজার স্বাভাবিক হতে বহু বছর সময় লাগতে পারে।
বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় 'নতুন বাজার'। বিজিএমইএ-র সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান জানান, এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা এই অঞ্চলে ব্যবসা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ বাজার আবার সচল হবে, তা অনিশ্চিত।
সরাসরি রপ্তানি ছাড়াও বহুজাতিক ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পোশাক মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাত। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই বিশাল সম্ভাবনা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে আকাশপথে যোগাযোগ সীমিত পরিসরে শুরু হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বড় পণ্য পরিবহন এখনো সম্ভব হচ্ছে না।