প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৮:১৬
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে তৃতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। আগামী চার সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রমের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে এই সেবা প্রদান করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার পর্যন্ত দুই দফায় দেশে মোট ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৩ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় প্রায় ১৫ লাখ শিশু এবং দ্বিতীয় দফায় ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ চারটি সিটি করপোরেশনে প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ঢাকা বিভাগে ৬ লাখ ১৩৪ জন , রাজশাহী বিভাগ ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৩ জন ,চট্টগ্রাম বিভাগ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৮ জন ,ময়মনসিংহ বিভাগ ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৯ জন ,বরিশাল বিভাগ ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ জন ,খুলনা বিভাগে ৭৪ হাজার ৫৮৫ জন ।
এদিকে ৪টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ২ লাখ ৪৪ হাজার এবং দক্ষিণে ১ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। এছাড়া বরিশাল ও ময়মনসিংহে প্রায় ৩২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
ইপিআই সূত্রে জানা গেছে, কেবল হাসপাতাল নয়, বরং শিশুদের উপস্থিতিকে প্রাধান্য দিয়ে নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ি মাদরাসা, মক্তব, এতিমখানা ও শিশু আশ্রমেও টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া যারা স্কুলে যায় না, তারা নিজ এলাকার নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবে। প্রতিটি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী কেন্দ্র পরিচালিত হবে।
দুর্গম এলাকা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেদে বহর, পথশিশু, বস্তি, জেলখানা বা হাসপাতালে মায়ের সাথে থাকা শিশু এবং কল-কারখানায় কর্মরত মায়েদের সন্তানদের জন্য বিশেষ সময়ে (বিকেল বা রাতে) টিকা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। দেশব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।" তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, দেশে টিকার কোনো সংকট নেই এবং আগামী জুন মাস পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৪৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৩ হাজার ৬০৬ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৬ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৮১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৩৯৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার কার্যকারিতা অনেক বেশি এবং এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হলে দ্রুতই প্রাদুর্ভাব শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।