প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০২:৩৭
দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর ফলে পাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশেই দূর হবে।
পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা জেলায় আজ থেকে নতুন করে আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্পে এই পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল থেকে রাজধানীর ৭টি পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। নতুন ১৮টি যুক্ত হওয়ায় এখন চালকরা আরও সহজে এই ডিজিটাল সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার এই পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব জেলায় এই সেবা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
যেসব নতুন পাম্পে মিলবে এই সুবিধা নতুন করে যে ১৮টি পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ,শ্যামলীর করিম অ্যান্ড সন্স। মিরপুর এলাকার ইস্টার্ন এন্টারপ্রাইজ (মিরপুর-১), মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশন (মিরপুর-১০), হামিদ ফিলিং স্টেশন ও সুমাইয়া ফিলিং স্টেশন (কাজীপাড়া)। তেজগাঁও এর মেসার্স সাত্তার অ্যান্ড কোম্পানি, মেসার্স করিম অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং বিআরবি ফিলিং স্টেশন। উত্তরার গাজীপুর ট্রেডার্স, মহাখালীর মেসার্স রশিদ ফিলিং স্টেশন এবং বাড্ডার সেবা ফিলিং স্টেশন।
আগের ৭টি স্টেশন এর আগে গত রবিবার থেকে যে ৭টি পাম্পে এই কার্যক্রম বাধ্যতামূলক ছিল সেগুলো হলো— তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন।
কিউআর কোড ভিত্তিক আধুনিক ব্যবস্থা জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আনতে এই কিউআর কোড ভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হলেও, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভবিষ্যতে সব ধরনের যানবাহনের জন্য অ্যাপটি বাধ্যতামূলক করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে জ্বালানি সরবরাহে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি গ্রাহকরাও কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।