করছাড়ের সাফল্য প্রচারে লাস ভেগাস সফরে ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৯:১১

আসন্ন মার্কিন নির্বাচন এবং ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের অর্থনৈতিক সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লাস ভেগাস সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর স্বাক্ষরিত আয়কর ছাড় আইনের সুফল প্রচার করাই তার এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

 

আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক সাফল্যকে সামনে আনা ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন আয়কর ছাড়ের বিষয়টিকে নির্বাচনী ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, লাস ভেগাসে গোলটেবিল বৈঠকের পর শুক্রবার ফিনিক্স শহরে ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

 

সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর গড় আয়কর ছাড়ের পরিমাণ ৩ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৪০ ডলার বেশি। লাস ভেগাসের মতো পর্যটন ও বিনোদন নির্ভর শহরে কর্মীদের আয়ের বড় অংশ আসে টিপস থেকে। ট্রাম্পের নতুন আইন অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ ও সেলুনের মতো পেশায় নিয়োজিত কর্মীরা বার্ষিক ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত টিপস ও ওভারটাইম আয়ে করছাড় পাচ্ছেন।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ‘টিপসের ওপর কর নয়’—এই বৈপ্লবিক ধারণাটি তিনি লাস ভেগাস থেকেই পেয়েছিলেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনের সুফল ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, বর্তমানে লাস ভেগাসে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। হেন্ডারসনের বাসিন্দা বিমানসেবক নিকোলাস ডেলানি জানান, টিপসে করছাড় ভালো উদ্যোগ হলেও আকাশছোঁয়া তেলের দাম জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যাসিনো কর্মী পলা গুডম্যানও।

 

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই জানিয়েছেন, জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার মাধ্যমে দাম কমানোর চেষ্টা চলছে। ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের মতে, বর্তমানে যে হারে কর ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে অন্তত আগামী পাঁচ মাসের জ্বালানি খরচ মেটানো সম্ভব।

 

নির্বাচনী এই প্রচারণার মাঝেই ট্রাম্পের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পোপের সঙ্গে বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিতর্কিত ছবি পোস্ট করার ঘটনায় নিজ দলের ভেতরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান কৌশলী রন বোনজিয়ান মনে করেন, ট্রাম্প যদি অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব না দিয়ে বারবার প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন, তবে ভোটারদের কাছে তার মূল বার্তা পৌঁছানো কঠিন হবে।


ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগেই জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আলোচনার অগ্রগতি হলে আগামী ২০ জুন থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসতে পারে।