প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৫:০৪
দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে বড় ধরনের তিনটি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, অতীতের অবাস্তব পরিসংখ্যান ও জনবিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন থেকে বাস্তবসম্মত এবং জনগণের চাহিদাপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থনীতি বিভাগকে পরামর্শ দিতে গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা জানান।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, অতীতে প্রণীত অনেক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল ছিল না। এখন সেই ভুলগুলো মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যা সহজে বাস্তবায়নযোগ্য এবং যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তিনি জানান, কেবল খাতা-কলমের সংখ্যাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন কৌশল সাজানো হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিতুমীর বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও 'কৌশলগত মজুদ' গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের নিজস্ব গ্যাসসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদের উত্তোলন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অর্থনীতির সুফল যেন সবার কাছে পৌঁছায়, সেজন্য 'অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন'-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং শিল্পের বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক শুমারিতে শিল্প উৎপাদন হ্রাসের চিত্রে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের গুণগত মানের ঘাটতি এবং বৈষম্য দূর করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন থাকলেও, উপদেষ্টা প্রবৃদ্ধির চেয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতের প্রবৃদ্ধি ছিল মূলত 'কর্মসংস্থানবিহীন' এবং সেই সব তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে যুবক, নারী ও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে।
সরকারের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর জ্বালানি সরবরাহের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'ফার্মার কার্ড' কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোকে এখন জাতীয় এজেন্ডা হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।