আগামী দুই মাস দেশে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই: মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৫:০০

দেশের বাজারে আগামী দুই মাস জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৯১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯০০ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ৪৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযানে সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজেল ৩ লাখ ৬ হাজার লিটার ,অকটেন: ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার ,পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার ,ফার্নেস অয়েল ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার (চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকৃত)।

 

সব মিলিয়ে সারা দেশে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার অবৈধ মজুদকৃত তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। আজকের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১ টন পেট্রোল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন ফার্নেস অয়েল জমা আছে।

দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ (ইআরএল) বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ মেটায়। বর্তমানে এর দুটি ইউনিট সচল রয়েছে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি পুরোদমে চালু হবে।

 

মুখপাত্র জানান, ইআরএল সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ সরকার নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে, যার পর্যাপ্ত মজুদ বর্তমানে হাতে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির শিডিউলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে আশার কথা হলো, সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে একটি তেলের জাহাজ লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পথে রওনা দিয়েছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বা মে মাসের শুরুতে জাহাজটি দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মনির চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকার এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর পক্ষে নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।