প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০২:০৫
দেশের কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের হাতে 'কৃষক কার্ড' ও 'প্রকৃতির বন্ধু' নামক গাছ তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করার কথা থাকলেও, পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় তিনি সরাসরি সমাবেশস্থল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। তবে জানা গেছে, দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষিমেলা উদ্বোধন শেষে তিনি মাজার জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই বিশেষ কার্ডের উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ মোট তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। ধাপগুলো হলো— প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং এবং সবশেষে দেশব্যাপী মূল কার্যক্রম পরিচালনা।
কৃষক কার্ডে মিলবে যেসব সুবিধা:
কৃষকদের জন্য এই কার্ডটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ সহায়িকা। এর মাধ্যমে কৃষকরা যেসব বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাবেন:
উপকরণ ও ঋণ: ন্যায্যমূল্যে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি।
যন্ত্রপাতি ও ভর্তুকি: স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা এবং সরকারি সকল ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি পাওয়ার সুবিধা।
তথ্য ও প্রযুক্তি: মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারের সর্বশেষ দর এবং ফসলের রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।
প্রশিক্ষণ ও বিমা: উন্নত কৃষিকাজের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি বিমা সুবিধা।
বাজারজাতকরণ: কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পান, সেজন্য সরাসরি পণ্য বিক্রয়ের বিশেষ সুযোগ।