প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০১:২০
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করাই এই বাহিনীর একমাত্র ও পবিত্র দায়িত্ব।
আজ রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর এক বিশেষ দরবারে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে সুপরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই বর্বরোচিত ঘটনার মাধ্যমে এই বাহিনীর অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেছে। আগামী দিনের নির্বাচনসহ জাতীয় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় থেকেই বাহিনীর ভেতরে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোবল তৈরি হয়েছিল, তা আজও বজায় রাখা জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বিশ্বের কোনো শক্তি বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল বিএনপি সরকারই। সশস্ত্র বাহিনী একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যার মূল কাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।
তারেক রহমান বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, বরং দেশের প্রতিটি সেক্টরের সংস্কার এবং প্রতিটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি যে 'জুলাই সনদ' তৈরি করেছিল, তার প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।